
ডেস্ক :
পারিবারিক বাধা অতিক্রম করে ভালোবাসার সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন এক প্রেমিক যুগল। কিন্তু বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং প্রিয়জনকে হারানোর ভয় তাদের ঠেলে দেয় চরম সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত একই বোতল থেকে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নবদম্পতি। বর্তমানে তারা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার সিদ্ধান্ত ফৌজদারের কন্যা শ্রুতি ফৌজদার (১৫) এবং ডুমুরিয়া উপজেলার বয়ারসিং এলাকার দিলিপ মণ্ডলের পুত্র অভি মণ্ডল (২২)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিল না মেয়ের পরিবার।পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে বুধবার সকালে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে পাইকগাছা উপজেলার গড়ুইখালী পাতড়াবুনিয়া গ্রামে অভির এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।অভির বোন আঁখি মণ্ডল জানান, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মেয়ের পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে নবদম্পতির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয়জনকে হারানোর ভয় এবং পারিবারিক চাপের মুখে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কারণে তারা একসঙ্গে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু পরিবারের অসম্মতির কারণে পালিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হন। পরে মেয়ের পরিবারের লোকজন তাদের নিয়ে যেতে আসছেন—এমন খবর পেয়ে তারা চরম সিদ্ধান্ত নেন।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের আশঙ্কা সহ্য করতে না পেরে ওই যুগল ঘরের দরজা বন্ধ করে একই বোতল থেকে বিষপান করেন। কিছু সময় পর বিষয়টি টের পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
